OrdinaryITPostAd

সাজেক ভ্যালি

সাজেক ভ্যালি ভ্রমণের বিস্তারিত গাইডলাইন:

 সাজেক ভ্যালি: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,৮০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত মেঘের রাজ্য, যা রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত হলেও এখানে যাতায়াত করতে হয় খাগড়াছড়ি জেলা হয়ে. পাহাড়, মেঘ আর সবুজের অপূর্ব মিতালী দেখতে প্রতিবছর হাজারো পর্যটক এখানে ভিড় করেন. সাজেক ভ্রমণের জন্য একটি সম্পূর্ণ গাইড নিচে দেওয়া হলো:

যাওয়ার উপায়
  • ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি: ঢাকার সায়দাবাদ বা ফকিরাপুল থেকে শান্তি পরিবহন, শ্যামলী, সৌদিয়া বা ঈগল পরিবহনের বাসে খাগড়াছড়ি নামতে হবে. নন-এসি ভাড়া সাধারণত ৫২০ টাকা এবং এসি বাসের ভাড়া ৭০০ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে.
  • খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক: খাগড়াছড়ি জিপ স্ট্যান্ড থেকে সাজেকের জন্য 'চান্দের গাড়ি' (খোলা জিপ) রিজার্ভ করতে হবে. যাতায়াতসহ দুই দিনের জন্য চান্দের গাড়ি ভাড়া ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা. একটি গাড়িতে ১২-১৫ জন বসা যায়, তাই গ্রুপে গেলে খরচ কমে. 
  • আর্মি স্কর্ট প্রটোকল: দীঘিনালা পার হওয়ার পর বাঘাইহাট আর্মি ক্যাম্প থেকে সকাল ১০:৩০ অথবা বিকেল ৩:০০ টার আর্মি স্কর্টের সাথে সাজেক ভ্যালিতে প্রবেশ করতে হয়. এই নির্দিষ্ট সময় মিস করলে সেদিনের মতো সাজেক প্রবেশ করা যায় না.
দর্শনীয় স্থানসমূহ
  • রুইলুই পাড়া: এটি সাজেকের মূল কেন্দ্র, যেখানে বেশিরভাগ রিসোর্ট, হোটেল ও রেস্তোরাঁ অবস্থিত.
  • কংলাক পাড়া: সাজেকের সর্বোচ্চ চূড়া. চান্দের গাড়ি যেখানে থামবে, সেখান থেকে কিছুটা পথ পাহাড়ি রাস্তা হেঁটে কংলাক পাড়ায় উঠতে হয়. এখান থেকে পুরো সাজেক ভ্যালির ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ দেখা যায়.
  • লুসাই গ্রাম: ঐতিহ্যবাহী এই গ্রামে লুসাই জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা দেখা যায়. এখানে সততার প্রতীক 'দোকানদার ছাড়া দোকান' রয়েছে.
  • সাজেক হেলিপ্যাড: বিকেল বা ভোরে হেলিপ্যাডে বসে সূর্যাস্ত ও মেঘের সমুদ্র (Sea of Clouds) দেখার চমৎকার অভিজ্ঞতা নেওয়া যায়.


থাকা ও খাওয়া
  • রিসোর্ট: সাজেকে পাহাড়ের ভিউ অনুযায়ী বিভিন্ন মানের রিসোর্ট আছে (যেমন: মেঘপুঞ্জি, সাজেক ইকো রিসোর্ট ইত্যাদি). প্রতি রাতের জন্য রুম ভাড়া ১,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে. ছুটির দিনে যাওয়ার আগে অবশ্যই রুম বুকিং করে নেওয়া উচিত.
  • খাবার: সাজেকের রেস্তোরাঁগুলোতে পাহাড়ি ঐতিহ্যবাহী খাবার পাওয়া যায়. এখানকার 'ব্যাম্বু চিকেন' (বাঁশের ভেতর রান্না করা মুরগি) বেশ জনপ্রিয়.
গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিপস
  • নগদ টাকা: সাজেকে কোনো এটিএম বুথ নেই এবং অনলাইন পেমেন্ট নেটওয়ার্ক দুর্বল, তাই পর্যাপ্ত ক্যাশ টাকা সাথে রাখুন.
  • মোবাইল নেটওয়ার্ক: সাজেকে রবি ও টেলিটকের নেটওয়ার্ক সবচেয়ে ভালো পাওয়া যায়.
  • পাওয়ার ব্যাংক: সাজেকে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সোলার বা জেনারেটর নির্ভর হওয়ায় ফোন চার্জের জন্য পাওয়ার ব্যাংক সাথে রাখা জরুরি.
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): নিরাপত্তা চেকপোস্টের জন্য NID কার্ডের মূল কপি বা ফটোকপি সাথে রাখুন

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪